Blogger Widgets

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানকে জনপ্রিয়করনের আন্দোলন

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার বিষয়বস্তু বের করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট উপকরণ সমূহ ব্যবহার করেন। কিন্তু তার সিংহ ভাগই ইংলিশ বা অন্যান্য ভাষায় লেখার দরুন সাধারণ বাংলা ভাষী মানুষ সেই সকল তথ্য এবং উন্নতি সম্পর্কে জানার থেকে অনেক পিছিয়ে। তাদের কে এই বিজ্ঞান ও নানা প্রযুক্তিক সম্পর্কে জানানোর জন্যই কৌতূহল।

বিজ্ঞান এর সাথে পড়ার আনন্দ যেখানে আলাদা

কল্পবিজ্ঞান থেকে প্রাচীন বিজ্ঞান সমস্ত ধরণের জনপ্রিয় বিজ্ঞানের লেখায় ভরা এই এই কৌতূহল। আছে বিভিন্ন রকম এর বিষয়। নানান রকম নতুন নতুন প্রযুক্তির খবরা-খবর। বিজ্ঞান এর ইতিহাস।

পড়ুন যেমন খুশি, যখন খুশি। পড়ান সবাই কে।

কৌতূহল হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রুপ ব্লগ। বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী পাঠকেরা ইন্টারনেটে যাতে এক জায়গায় কিছু লেখা পড়তে পারেন সেই উদ্দেশ্যে এই কৌতূহল তৈরি। আপনিও যুক্ত হতে পারেন কৌতূহল-এর সাথে।

বিজ্ঞানকে সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়গুলো গল্পের ছলে বলে সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানে উৎসাহী করা, মানুষকে বিজ্ঞানমনষ্ক করা। দুর্বোধ্য ভাষায় তত্ত্বকথা না বলে বিজ্ঞানকে সহজ করে বোঝানো, এই উদ্দেশ্যে নিয়েই পথ চলা শুরু আমাদের।

মতামত জানান কৌতূহল-এর প্রতিটি লেখা ও অন্যান্য বিষয় কে আরও উন্নত করতে।

কৌতূহল-এর কথা জানিয়ে দিন আপনার পরিচিতদের কাছে Facebook, Twitter, email-র মাধ্যমে। কিংবা মুখেমুখে। কৌতূহল-এর সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে আমাদের দরজা খোলা।

সহস্র বছরের ৫টি বৈপ্লবিক আবিষ্কার


সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে আমরা চশমাটা পড়ে নেই, এরপর রেডিও বা টেলিভিশন চালু করি এবং নিউজপেপারটা হাতে নিয়েই পড়া শুরু করি। এর মাঝেই কিন্তু আমরা গত ১০০০ বছরের ইতিহাসের তিনটি যুগান্তরি আবিষ্কারকে ব্যবহার করে ফেলেছি: চশমার লেন্স, তারহীন যোগাযোগ এবং প্রিন্টিং প্রেস। আমার মনে হয় সবার ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটে, তবে ঘুম থেকে উঠেই যাদের আমার মত চোখে সারাক্ষণ চশমা দিয়ে রাখতে হয় না তাদের অবশ্য লেন্সের ব্যবহারটার তেমন প্রয়োজন হয়না! যাই হোক আবার আসল প্রসঙ্গে আসি, এরপরই আমরা গাড়িতে করে স্কুল-কলেজ বা কাজে যাই, কম্পিউটারে কাজ করি, ফোন ব্যবহার করি – যার সবই গত ১০০০ বছরে বিজ্ঞানীদের বিস্ময়কর সব আবিষ্কার। গত এক সহস্র বছরে বিজ্ঞান এমন হাজারেরও বেশি আবিষ্কার আমাদের উপহার দিয়েছে যা ছাড়া এখন আমাদের জীবন কল্পনাই করা যায়না । কিন্তু প্রশ্ন হল কোন আবিষ্কারগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন? কোন আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানে নতুন মাত্র যোগ করেছে? কোনগুলো প্রযুক্তির নতুন ধারার সূচনা করেছে? আজ এমনই কিছু আবিষ্কার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।
বিদ্যুৎ

শুধু গত সহস্র বছরেরই নয়, বিদ্যুৎ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুৎ না থাকলে আজ আমরা কোথায় থাকতাম একটু ভাবুন তো? বিদ্যুৎ ছাড়া বর্তমান বিজ্ঞান কল্পনাও করা যায়না। শুধু বিদ্যুৎ কেন, বিদ্যুতের মাধ্যমে পরবর্তিতে যেসব যন্ত্র আবিষ্কৃত হয় তার সবকটিই ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। বিদ্যুৎ আবিষ্কারে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন থমাস আলভা এডিসন (Thomas Alva Edison)। তার বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই বিদ্যুতের আবিষ্কার। ১৮৮২ সালে এডিসনই প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
তবে বিদ্যুতের উপর গবেষণা শুরু হয় ১৬ শতকের দিকে। ১৮ শতকের মধ্য দিকে আমেরিকান বিজ্ঞানী বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন (Benjamin Franklin) প্রথম বিদ্যুতের উপর ব্যবহারিক গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু এসময় নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না। শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্যই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেত। ১৮৪০ সালে আবিষ্কৃত টেলিগ্রাফাও ব্যাটারির মাধ্যমে চালানো হত। এরই মাঝে ফ্যারাডের একটি আবিষ্কারের সূত্র ধরেই ১৮৩১ সালে ডায়নামো আবিষ্কার করা হয়।
যান্ত্রিক ঘড়ি

আজ আমরা যে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করছি এর অনেকটা অবদানই হল ঘড়ির অর্থাৎ সময় গণনাকারী যন্ত্রের। কিন্তু যেই ঘড়ি ছাড়া আমাদের একটা দিনও চলেনা কখনো কী ভেবে দেখেছি এই ঘড়ি কে আবিষ্কার করেছে?
না, ইতিহাসেও এই মূল্যবান আবিষ্কারটির আবিষ্কারক হিসেবে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়না। তবে সূর্য ঘড়ির ব্যবহার শুরু অনেক কাল আগে থেকেই। ধারণা করা হয় মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর অর্থাৎ সূর্য-ঘড়ি নির্মাণ করেছিল আর ১৪ শতাব্দীতে এসে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্বের উপর ভিত্তি করে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করেন।
কিন্তু ১৪ শতকের দিকে নির্মিত ঘড়িগুলোতে শুধুমাত্র ঘন্টা নির্দেশ করতে সক্ষম হত, মিনিট বা সেকেন্ড নির্ণয় করতে পারতোনা। তাছাড়া বর্তমান ঘড়ির দুই ঘন্টা ছিল সেই ঘড়ির হিসেবে এক দিন, যার মানে একদিনে ঘড়িটি মাত্র দুবার ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ঘুড়তে পারতো। অর্থাৎ এই ঘড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সূক্ষ সময় গণনা করা যেত না। অবশেষে ডাচ জ্যোতির্বিদ ক্রিশ্চিয়ার হাইজেন্স (Christian Huygens) ১৬৫৭ সালে এসে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে মিনিট, সেকেন্ড ও ঘন্টা নির্দেশকারী উন্নতমানের যান্ত্রিক ঘড়ির নকশা করেন।
কম্পাস

কম্পাস অর্থাৎ দিক নির্দেশক যন্ত্র সম্পর্কে সবারই কম বেশি জানা আছে। সূচালো শলার উপর সরু চুম্বকের পাত বসিয়ে কম্পাস তৈরি করা হয় যেখানে চুম্বকপাতের প্রান্ত দুটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে থাকে। বর্তমানে কম্পাস আর একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তৈরি হচ্ছে নানা রকম কম্পাস। যেমন: সাধারণ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয় পকেট কম্পাস, আকাশপথে ব্যবহৃত হয় জাইরো কম্পাস আবার নৌপথে ব্যবহৃত হয় নৌকম্পাস। আর এই কম্পাস আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে বিশাল ইতিহাস।
ইউরোপিয়ানরা যখন প্রথম আমেরিকায় যাবার পরিকল্পনা শুরু করে তখনই তারা একটা দিক নির্দেশক যন্ত্রের অভাব অনুভব করে। তারা পরিস্কার দিনের আকাশের সূর্য কিংবা রাতের আকাশের নক্ষত্র বিশেষ করে নর্থ স্টার বা উত্তর নক্ষত্রের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আকাশ পরিস্কার না থাকলে কিংবা ঝড় বা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দিক নির্ণয় করা শুধু কষ্টসাধ্যই নয়, অনেকটা অসম্ভব ছিল যা তাদেরকে কম্পাস আবিষ্কারে আরও উদ্বুদ্ধ করে। তার আগেই প্রাচীনকালের মানুষেরা ম্যাগনেট বা চুম্বকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিল যে ম্যাগনেট কে ঝুলিয়ে রাখলে এর এক প্রান্ত সর্বদা নর্থ স্টারের দিকে মুখ করে থাকে অর্থাৎ নর্থ স্টারকে নির্দেশ করে।
ধারনা করা হয় ১৩ শতকের দিকে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্বের উপর ভিত্তি করেই কম্পাস বা দিক নির্দেশক যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তবে এমন কথারও প্রচলন আছে যে আরবরাই প্রথম চীনাদের তত্ত্ব অনুসরণ করে কম্পাস আবিষ্কার করে কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কোন প্রমাণ পাওয়া জায়নি। ১৪শতকের দিকে কম্পাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে তা একটা সাধারণ বিষয়েই পরিণত হয়।
বর্তমান বিজ্ঞান দিক নির্দেশনার জন্য হাজারো প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে, জিপিএস এর কথায় হয়তো আপনাদের অনেকেরই জানা। তারহীন প্রযুক্তি দিক নির্দেশনাকে একটা ছেলেখেলাই বানিয়ে ফেলেছে কিন্তু এসবকিছুর শুরুটা কিন্তু হয়েছিল এই সাধারণ একটা কম্পাসের মাধ্যমেই। এই কম্পাস ব্যবহার করেই ইউরোপিয়ানরা প্রথম আমেরিকা সফর করতে সক্ষম হন।
লেন্স

গ্যালিলিওর টেলিস্কোপ
চশমা বা লেন্স এর ব্যবহার আজ একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই লেন্স না থাকলে যে আমার মত চশমা ব্যবহারকারীদের কী অবস্থা হতো কখনো কী কেউ ভেবে দেখেছেন? কিংবা যে ক্যামেরা দিয়ে আমরা হাজরো স্মৃতি সংরক্ষণ করি সেটাই বা কীভাবে আবিষ্কৃত হত? লেন্স আবিষ্কার না হলে প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারও বিলম্বিত হত।
ইতিহাসের মতে প্রথম যে লেন্স আবিষ্কৃত হয় তা শুধুমাত্র মানুষের চোখের জন্যই ব্যবহার করা যেত। ১৩ শতাব্দীর দিকে ইতালিতেই প্রথম মানুষের চোখে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত লেন্সের ব্যবহার শুরু হয়।তবে এখানেও ধারণা করা হয় যে ইতালিতে ব্যবহার করা এই উন্নত সংস্করণের চশমার পূর্বে চীনারাই প্রথম চশমার ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু মানের দিক থেকে ইতালিয়ানদের সংস্করণের তুলনায় চীনাদের সংস্করণটি নিম্নমানের হওয়ায় ইতালিই ইতিহাসে স্থান করে নেয়।
পরবর্তিতে দূরের বস্তুকে কাছে দেখার জন্য লেন্স আবিষ্কৃত হতে আরও ১০০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। এই আবিষ্কারে অবদান রাখেন ডাচ অপটিশিয়ান অর্থাৎ চশমা প্রস্তুতকারী হ্যানস লিপারশে (Hans Lippershey)। তিনি এটার নাম দেন “লুকার” (Looker) এবং ১৬০৮ সালে ডাচ সরকারকে তার এই লুকারের প্রমাণ দেখানোর কিছুদিনের মাঝেই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে প্রথম প্রথম এই লুকার শুধুমাত্র ডাচ মিলিটারিতেই ব্যবহৃত হত।
এর এক বছর পরই অর্থাৎ ১৬০৯ সালে আকাশ নিয়ে গবেষণা করার জন্য গ্যালিলিও (Galileo) লুকারের একটি উন্নত সংস্করণ আবিষ্কার করেন। গ্যালিলিও এর নাম দেন টেলিস্কোপ যা দূরের কোন বস্তুকে ২০ গুণ বড় বা কাছে দেখাতে সক্ষম হত। ১৭ শতাকের দিকে হল্যান্ড লেন্স নিয়ে গবেষণায় অনেক এগিয়ে যায়। তবে ধারণা করা হয় এরও আগে ১৬ শতকের শেষের দিকে মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কৃত হয়।
১৬ শতকেই ডাচ প্রাণিবিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েনহোক (Antoni van Leeuwenhoek) তার নিজের তৈরি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোটোজোয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। পরবর্তিতে এই মাইক্রেস্কোপের মাধ্যম্যেই বিভিন্ন রোগের ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়।
তারহীন যোগাযোগব্যবস্থা

বর্তমানে বিজ্ঞান অনেকাংশই ওয়ারলেস কমিউনিকেশন বা তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেট, মোবাইল, জিপিএস, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ওয়াইম্যাক্স এসবই তারহীন যোগাযোগব্যবস্থার একেকটি রূপ যা ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনাও করা যায়না। আর এসবের শুরুটা হয়েছিল রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে। রেডিও ওয়েভ হল আলোক রশ্মি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, ইনফ্রারেড রশ্মি এবং এক্সরে রশ্মিরই আরেকটি রূপ।
১৮৮৮ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিক হার্টজ (Heinrich Hertz) প্রথম রেডিও ওয়েভ আবিষ্কার করেন এবং প্রমাণ করেন যে এই ওয়েভ আলোর গতিতে চলে। পরবর্তিতে ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মার্কোনি (Guglielmo Marconi) হার্টজের গবেষণাকে তারহীন যোগাযোগব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেন। ১৮৯৪ সালে হার্টজের গবেষণা সম্পর্কে পূর্ণ ধারনা লাভ করে মার্কোনি এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা উপলব্ধি করেন। ১৮৯৫ সালের শেষদিকে মার্কোনি একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার আবিষ্কার করেন যা ২.৫ কিলোমিটার বা ১.৫ মাইল পর্যন্ত রেডিও সিগনাল পাঠাতে সক্ষম হয়। এরপর ১৯০১ সালে তিনি এর একটি উন্নত সংস্করণ তৈরি করেন যা গোটা আটলান্টিক মহাসাগরেই সিগনাল পাঠাতে পারতো।
১৯ শতকেই রেডিও সিগনাল এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। ১৯১২ সালে টাইটানিক বৃহৎ বরফ খন্ডে দুর্ঘটনায় পড়লে এই রেডিও সিগনালের মাধ্যমেই সাহায্যের আবেদন করে। যদিও ২২২০ যাত্রীর মাঝে শুধুমাত্র ৭০০ জনকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ধারণা করা হয় রেডিও সিগনাল ব্যবহার না করল এই সংখ্যা আরও অনেক কম হত। এরপর রেডিও ওয়েভের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পায়। কানাডায় জন্ম নেয়া আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ফেসেনডার (Reginald Fessender) রেডিও ওয়েভের এক অভিনব ব্যবহার আবিষ্কার করেন যার ফলে শব্দের পাশাপাশি ছবিও পাঠানো যেত। এই রেডিও সিগনালের তত্বের উপর ভিত্তি করেই ১৯২৮ সালে টেলিভিশন রিসিভার আবিষ্কার করা হয়। এর পরের ইতিহাস কেবলই রূপকথা। আমরা যে ইন্টারনেটে এখন লিখছি-পড়ছি তা এই রেডিও ওয়েভেরই উন্নত সংস্করণ।

পিস্তলের সাইলেন্সার যেভাবে কাজ করেপিস্তলের সাইলেন্সার যেভাবে কাজ করে


এটি সত্যিই কিছুটা অবাক করার মত যে, এমন কিছু রয়েছে যেটা একটি পিস্তলকে নিরব করতে পারে। তবে পিস্তলে সাইলেন্সার ব্যবহারের বিষয়টি আসলে খুব একটা অবাক করার মত কিছু নয়। এটি খুবই সহজ একটি নীতি অনুসরন করে কাজ করে। একটি ছোট উদাহরন দিলে কিছুটা ধারনা নেয়া যাবে। মনে করুন, আপনি একটি বেলুন পিন দিয়ে ফুটো করে দিলেন। তখন এটি প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হবে। কিন্তু যদি আপনি এর মুখের দিকটি খুলে দেন, তাহলে এটি থেকে বাতাস আস্তে আস্তে বের হয়ে যাবে এবং খুব একটা শব্দ করবে না। পিস্তলের সাইলেন্সার এর পিছনে এই মৌলিক ধারনাটিই মুলত কাজ করে।

পিস্তল থেকে একটি বুলেট নিক্ষেপ করার সময় বুলেটের পেছনে থাকা গান পাউডার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি খুবই উচ্চ চাপের গরম গ্যাসের একটি তড়িৎ প্রবাহ তৈরি করে যা বুলেটটিকে ব্যারেল দিয়ে তীব্র গতিতে বের করে দেয়। বুলেটটি যখন ব্যারেল থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে যায়, তখন ব্যপারটি দাঁড়ায় অনেকটা বোতল থেকে কর্কের ছিপি খুলে দেয়ার মত। অর্থাৎ বুলেটের পেছনে থাকা গ্যাস তীব্র গতিতে বের হওয়ার ফলে ভয়াবহ শব্দের তৈরি হয়।

সাইলেন্সার যুক্ত করা পিস্তলে মুলত বুলেটটি বেরিয়ে যাবার পর, চাপযুক্ত গরম গ্যাস কিছুটা প্রসারিত হওয়ার জায়গা পায়। ফলে এটির চাপ অনেকটাই কমে যায় এবং যখন বুলেটটি বেরিয়ে যায়, তখন এর শব্দ হয় অনেক কম। তবে এই সাইলেন্সার কিন্তু পিস্তলের শব্দকে পুরপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। কিছুটা ভোতা হালকা একটি শব্দ হয়।
অনেকের মতে সুপারসনিক স্পীডে(শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি) ছোটা বুলেটের শব্দকে সাইলেন্সার মোটেই কমাতে পারেনা। কারন এই ধরনের বুলেট ব্যারেল থেকে বেরিয়ে যাবার পর গতির কারনে এক ধরনের শব্দ তৈরি হয় যা নিয়ন্ত্রন করা যায় না। কারন সাইলেন্সার শুধুমাত্র বুলেট বেরিয়ে যাবার সময় সৃস্টিকারী শব্দ নিয়ন্ত্রন করতে পারে, বাতাসের মধ্য দিয়ে বুলেটের ছুটে যাবার শব্দকে নয়।

শব্দকে এক দিকে প্রবাহিত করার সফল প্রচেষ্টা


যদি এমন হয় যে ঘরের মধ্যে একটি ব্যান্ড সঙ্গিত চলে এবং বাইরের লোকজন এটা শোনবে না তবে বাইরের লোকে  যা বলবে তা সেই ঘরের লোক জন শোনতে পারবে তাহলে কেমন হয়? শব্দের একমুখি প্রবাহের এরকম ধারণা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন ইটালীর দুইজন বিজ্ঞানী। তারা প্রমান করতে সক্ষম হন যে শব্দকে ইচ্ছানুযায়ী পরিচালনা করা যায়।

শব্দ গবেষকদল এর জন্য একধরনের লেয়ার তৈরী করেছেন যাতে শব্দ প্রবেশ করে এবং তা প্রতিধ্বনিত হয়ে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে। কিন্তু অপর দিকে থেকে আসা শব্দ সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
ইনসার্ভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কেসেটি জানান, এই ডিভাইজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এটাকে শব্দ ডায়োড বলে আক্ষায়িত করেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রেও এটার ব্যবহার হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে,
The question is if that same nonlinearity can be created in acoustics,It’s perhaps less easy, but there are some attempts in the literature and I think it’s something that’s already being realized.

মাইক্রোওয়েভ ওভেন যেভাবে কাজ করে


প্রথম প্রথম খুব অবাক লাগত যে, আমি প্লেটে করে খাবার দিচ্ছি ওভেনে। খাবার গরম হচ্ছে, কিন্তু প্লেট গরম হচ্ছে না। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? কারণ ওভেন থেকে যে গরম বাতাস খাবারকে গরম করার কথা, তা তো একই সাথে প্লেটটিকেও গরম করার কথা! কিন্তু সেরকম তো হচ্ছে না!
যারা যন্ত্রটি সম্পর্কে সামান্য জানেন তারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন আমার উপরের ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল! ওভেনে আসলে এরকম কোনই যন্ত্র নেই যা থেকে কোন গরম বাতাস বের হয়ে খাবারকে গরম করে।
আসলে ‘মাইক্রোওভেন’ এই নামটিতেই অনেকটা এর কাজের মূলনীতি লুকানো আছে। কি? ধরতে পারলেন না? ইংরেজিতে ব্যাপারটি পরিস্কার বুঝতে পারবেন।
Micro + wave + oven = Microwave oven (যাকে আমরা সচরাচর ‘মাইক্রোওভেন’ নামে ডেকে থাকি)।


মাইক্রোওভেন এ আসলে মাইক্রোওয়েভস এর মাধ্যমে খাবার গরম করা হয়। সাধারণত 2500 মেগা হার্জ বা 2.5 গিগা হার্জ এর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় এসব যন্ত্রে। এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তা হল এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গ কেবলমাত্র জল, চর্বি এবং চিনি জাতীয় বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। আর শোষিত হওয়া মাত্রই তরঙ্গটি আনবিক তাপগতিতে পরিণত হয় এবং বস্তুটিকে গরম করে। সিরামিক, গ্লাস এবং অধিকাংশ প্লাস্টিক এই তরঙ্গ শোষণ করতে পারে না, আর এই জন্যই ওভেনে পাত্র গরম হয় না এবং শক্তিরও অপচয় হয় না। এক ঢিলে দুই পাখি মারা আর কি।

Magnetron- যা মূলত ম্যাগনেটিক মাইক্রোওয়েব তৈরি করে


মাইক্রোওভেনে কখনও ধাতব পাত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি বলা হয়ে থাকে কারণ ধাতব পাত্র মাইক্রো ওয়েবকে প্রতিফলিত করে এবং খাবার কে গরম হতে বাধা দেয়।

Life of Pi মুভির কিছু কথা


গল্পের লোকেশন ইন্ডিয়া। ইরফান খান (প্রাপ্ত বয়স্ক গল্প কথক পিসিং বা Pi Patel) তার এক লেখক বন্ধুকে তার জীবনের গল্প বলছেন। যেহেতু গল্প কথক তার জীবনের একমাত্র গল্পটি পুরু সিনেমায় বলেছেন এবং কথকের নাম ছিল Pi তাই সোজাসুজি সিনেমার নাম Life of Pi হয়ে গেল। এখানে কোনও মার-প্যাঁচ নেই। Picine Molitor Patel পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে Pi হয়ে যান তার স্কুলের সহপাঠীদের জ্বালাতন সহ্য করতে না পেরে। এই সামান্য যন্ত্রণা যে পাই সহ্য করতে পারত না তারই জীবনের ভয়ানক এক এডভেঞ্চার মুভিতে ফুটিয়ে তুলেছেন কানাডিয়ান পরিচালক অং লি।
১৯৫৪ সালের দিকে ইন্ডিয়ার পান্ডিচেরিতে সন্তুস প্যটেল নামের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন , সরকারী জমি লিজ নিয়ে তিনি একটি চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে সরকারের সাথে কোনও একটা ঝামেলা হওয়াতে এবং আরও উন্নত জীবনের আশায় ঐ ব্যবসায়ী পরিবার (ব্যবসায়ী সন্তুস প্যটেল, ব্যবসায়ী স্ত্রী গীতা প্যটেল, রবি এবং পাই) চিড়িয়াখানার প্রাণী সহ একটি জাপানি জাহাজে করে কানাডায় পারি জমায়। তার পর সমুদ্রে ঝর সৃষ্টি হয় এবং ঘটনা ক্রমে পাই তার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। সৌভাগ্য ক্রমে সে একটা শিপরেক পেয়ে যায় এবং সঙ্গি হিসেবে পায় একটি জেব্রাকে। বিপর্যয়ের মাত্রাটা এই পর্যন্ত তাও ঠিক ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ফোঁড়ের মধ্যে বিষফোঁড়া হয়ে শিপরেকের শেডের নিচ থেকে বের হয় এক হিংস্র হায়েনা। সে নানান রকম যন্ত্রণা শুরু করে শিপরেকের বাসিন্দা পাই এবং জেব্রাটিকে। সেই সময় সমুদ্র দিয়ে ভেসে আসে তাঁদের চিড়িয়াখানার আরেক পোষা প্রাণী অরেঞ্জ জুস নামের এক হনুমান। ঘটনা পরিক্রমায় হায়েনাটি জেব্রা এবং হনুমানটিকে মেরে ফেলে। ঠিক তখনই শেডের নিচে থেকে বের হয়ে আসে গল্পের অন্যতম মূল চরিত্র রিচার্ড পার্কার নামের একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ছোট্ট এক শিপরেকে অকূল সমুদ্রের মাঝে পাই এবং রিচার্ড পার্কার নামের একটি বাঘ, বোঝেন অবস্থা!!!
শুরু হয় সার্ভাইবাল... অনেক আশা নিরাশার মধ্যে দিয়ে পুরু শ্বাসরুদ্ধ কর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সিনেমার কাহিনী চলতে থাকে। সে কাহিনী গুলো বলে ফেললে সিনেমা দেখার মজাটা খানিকটা হালকা হয়ে যেতে পারে।
পুরু সিনেমার একটা বড় অংশ জুড়ে জায়গা করে আছে সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজার চেষ্টা। পাই একাধারে একজন হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধ। সে সব ধর্মের বিধান(নামাজ, পূজা, চার্চে প্রার্থনা, প্রাণীর মাংস না খাওয়া) পালন করতে থাকে এবং নিজেকে পরিচয় দেয় একজন ক্যাথলিক হিন্দু হিসেবে। মুভিতে ধর্ম সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে যেতে পারেন দর্শক। তাই বলা যায় সিনেমাটির দার্শনিক মূল্যও কম নয়। অনেক ম্যাসেজ রয়েছে এতে।

ছবির শুরুতে আনান্দি নামের একজনের সাথে প্রেমের কাহিনীর চুম্বকাংশ দেখানো হয়। তাই যারা রোমান্টিসিজম প্রেমি তাঁদের পিছুহটার দরকার দেখি না।
হলিউডকে এখন হলা হয় সব সম্ভবের কারখানা। এর প্রমাণ পাওয়া যায় যখন মুভিতে একটা নয়নাভিরাম ভাসমান দ্বীপের (আদতে একটা জ্যান্ত কারনিভোরাস) আভির্বাব ঘটে। সেখানকার দৃশ্য গুলো দেখার পরে যদি আপনার মনে হয় জুরাসিক পার্ক একটি কাঁচা হাতের কাজ তাহলে আপনাকে দুষ দেয়ার কেও থাকবে না।

সিনেমার একেবারে শেষে যখন কালো স্ক্রিনে ভেসে উঠে,
The making and legal distribution of this film supported over 14,000 jobs and involved over 600,000 work hours.
তখন বিষয়টি মেনে নিতে আপনার একটুও কষ্ট হবে না। বরং মনে মনে বলবেন, পরিচালক ব্যাটা কিছু কাজের সময় ব্যয় করেছে।
Life of Pi বইটির কথা আগেই শুনেছিলাম। সেটি নাকি বেষ্ট সেলার লিস্টে ছিল অনেক দিন পর্যন্ত। কিন্তু আমি শিউর, পরিচালক যা করেছেন এই সিনেমায় তাতে লেখকের চোখও ট্যাঁরা হয়ে যাবার কথা।
মুভিটি রিলিজ হয়েছে 3D ফর্মেটে। তবে HD ফর্মেটে ও রিলিজ হয়েছে।

জানা থাকা ভালো যে ছবিটির,
১. IMD রেটিং – ৮.2
২. পরিচালক: আং লি
৩. উপন্যাসে : ইয়ান মার্তেল
৪. স্ক্রিপ্ট : ডেভিড ম্যাজে
৫. অভিনয়: সুরজ শর্মা (প্রধান চরিত্র), ইরফান খান (প্রধান চরিত্র-গল্পকার রূপে), আদিল হুসেইন (পাই এর বাবা) , টাবু (পাই এর মা)
৬ . ঘরানা: এ্যাডভেঞ্চার + ড্রামা।
৭. রিলিজ ফরম্যাট: 3D

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু


ছোটবেলায় গাছপালা দেখলেই পাতা ছেঁড়া,ডালপালা ভাঙ্গা প্রায় আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ আর পারলাম না,কারণ স্কুলের শিক্ষিকা একদিন বললেন যে,আমাদের যেমন হাত কাটা গেলে আমরা ব্যাথা পাই তেমনি গাছেরাও একই অনুভূতিতে সাড়া দেয়। কথাগুলো শোনার পর থেকে নিজের এই বদঅভ্যাস থেকে সরে তো আসলামই,অন্যদেরও দেখলে বকা দিতাম। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, হ্যাঁ, তিনিই বিশ্ববাসীকে প্রথমবারের মত জানিয়েছিলেন উদ্ভিদের মধ্যে আছে প্রানশক্তি। এটি প্রমাণের জন্যে তিনি ‘ক্রেস্কোগ্রাফ’ নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন,যা উদ্ভিদদেহের সামান্য সাড়াকে লক্ষগুণ বৃদ্ধি করে প্রদর্শণ করে।



আজ এখানে জগদীশ চন্দ্র বসুর আলাদা গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই। তিনি যে শুধু বাঙালি তা নয়,তাঁর জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশেরই ময়মনসিংহ শহরে ১৮৫৮ সালে ৩০শে নভেম্বের। তাঁর পিতার নাম ভগবান চন্দ্র বসু (জেলার তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) এবং মায়ের নাম বামা সুন্দরী দেবী।



তাঁর শিক্ষাজীবনের ধাপগুলো শুরু হয় ফরিদপুরে,তারপর ১৮৬৯ সালে হেয়ার স্কুল,সেখান থেকে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল। তিনি ১৮৭৫ ষোল বছর বয়সে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ হয়ে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হোন। সেখান থেকে ১৮৭৭সালে অনার্স এবং ১৮৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি .এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৮৮০ সালে ভারত ছেড়ে লন্ডনে ডাক্তারি পড়ার জন্য মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা বাদ দিয়ে ১৮৮১ সালে লন্ডন ত্যাগ করে কেম্ব্রিজে যান। ১৮৮৪ সালে কেম্ব্রিজ ক্রাইস্ট কলেজ থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ে ট্রাইপোস (কেম্ব্রিজের বিশেষ কোর্স) এবং একই সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরলেন।



১৮৮৫ সালে জগদীশ বসু প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করলেন। তিনি তাঁর মৌলিক গবেষণা কলেজের ল্যাবরেটরিতে শুরু করলেন। প্রথম জীবনে তিনি ইথার তরঙ্গ ও বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। তাঁর গবেষণার প্রথম সাফল্য ছিল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাহায্যে সংকেত বা সংবাদ প্রেরণের সম্ভাবনা আবিষ্কার,যা এখন থেকে দেড়শত বছর আগের কথা !



আমরা যে এফএম বা রেডিওতে গানের মূর্ছনায় হারিয়ে যাই তার আবিষ্কারক হিসেবে কিছুদিন আগেও পুরো বিশ্ববাসী ইটালির বিজ্ঞানী মার্কোনিকেই জানত। কিন্তু ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত IEEE (Institute of Electrical and Electronics Engineers)এর প্রসিডিঙ্গে আমাদের জগদীশ বসুকে রেডিওর প্রকৃত আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কারণ,মার্কোনি তার আবিষ্কারে অনেক সূক্ষ্র যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছিলেন যার মধ্যে একটি হচ্ছে কোহেরার(২টি ধাতব পাতের মাঝে খানিকটা পারদ),যা ছিল রেডিও বা তারহীন সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মূল বিষয়। মজার ব্যপার হচ্ছে এই কোহেরার এর প্রকৃত আবিষ্কারক স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, যা মার্কোনি বা তার সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা কেউ স্বীকার করেনি। মার্কোনি বসুর তৈরি কোহেরারটি সামান্য পরিবর্তন করেছিলেন। বসুর কোহেরারটি ছিল U আকৃতির মত আর মার্কোনিরটি ছিল সোজা।

Fig. : Coherer designed by J.C. Bose


 Fig.: Coherer patented by Marconi




১৮৯৬ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু অদৃশ্য আলোক সম্পর্কে লিভারপুলের ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের বক্তৃতা দেন। ঐ সময় যদি তিনি নিজের নামে বেতার যন্ত্র পেটেন্ট করতেন,তাহলে মার্কোনি না,তিনিই হতেন বেতার যন্ত্রের সর্বপ্রথম আবিষ্কারক। এরপর লন্ডনে রয়েল ইনস্টিটিউটে তাঁকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্যে আহবান করা হয়। তিনি তাঁর কোহেরারটি নিয়ে একটি নিবন্ধ রয়েল সোসাইটিতে পড়েছিলেন। তাঁর এই কোহেরারটি দিয়ে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এক মাইল দূরের বাসভবনে সাংকেতিক চিহ্ন প্রেরণ করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় মৌলিক গবেষণার জন্য তাঁকে ডি .এস.সি উপাধি প্রদান করে।



এখন প্রশ্ন হল জগদীশ চন্দ্র বসু  নিজের নামে পেটেন্ট করেননি কেন ? ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথকে লিখা একটি চিঠিতে বলেন যে, ‘আমি যদি একবার টাকার মোহে পড়ে যাই তাহলে আর কোনদিন আর বের হতে পারব না।’ টাকার প্রতি তাঁর লোভ ছিল না বলেই তিনি পেটেন্ট নিজের নামে করেননি।



১৯৩৭ সালের ২৩ শে নভেম্বর জগদীশ চন্দ্র বসু তাঁর কর্মময় জীবন থেকে চিরবিদায় নিলেন। আমরা তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম উত্তরাধিকার সূত্রে পেলাম ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির।’ তিনি একজন সাহিত্যিকও ছিলেন। তাঁর লেখা ‘অব্যক্ত’ বাংলা ভাষায় একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়াও আমরা যে সায়েন্স ফিকশানগুলো পড়ে বিজ্ঞানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে চিন্তা করি,তার জনক হলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। ১৮৯৬ সালে তাঁর লেখা প্রথম সায়েন্স ফিকশানটির নাম ছিল ‘নিরুদ্দেশের কাহিনী’।



স্যার নেভিল মট ১৯৭৭ সালে বসু সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন,"জগদীশ চন্দ্র বসু  তার সময় অপেক্ষা ৬০ বছর এগিয়ে ছিলেন"।.বিজ্ঞানে তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ তিনিও রেডিও আবিষ্কারের অন্যতম জনক।


৫-১০ বছরের মধ্যেই আপনার কম্পিউটারে পেতে পারেন কয়েক লক্ষ গীগা-বাইটের মেমোরিডিস্ক!!!


চমকে উঠার মত কথা! কয়েক লক্ষ গীগা-বাইট মেমোরিডিস্ক কম্পিউটারে। আসলে বাস্তব তথ্যটা আরও চমকানোর মত।কারন সম্প্রতি আই.বি.এম এর গবেষকরা এমন একটি আবিস্কার করেছেন,তা যদি বাজারজাত করা যায় তবে কয়েক লক্ষ গীগা-বাইট মেমোরি আপনার কম্পিউটারে নয় মোবাইল সেটের ছোট মেমোরি কার্ডেও পাবেন।

আসলে মেমোরি ডিস্ক গুলো প্রতি নিয়তি ছোট হচ্ছে।মাত্র ২০-৩০ বছর আগে এক গীগা-বাইট মেমোরি একটি পুরো কক্ষে রাখতেহত আর এখন আমরা কয়েক হাজার গীগা-বাইট মেমোরি আমাদের কম্পিউটারে রাখি। এ আবিস্কারটাও সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে।

আই.বি.এম এর গবেষকরা মাত্র ১২টা অনু ব্যবহার করে ১বিট কম্পিউটার মেমোরি জমা করেছেন।বর্তমানে যে সব হার্ডডিস্ক আমরা ব্যবহার করি সেগুলোতে ১বিট জমা করার জন্য প্রায় ১মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ অনুর দরকার।আর এই আবিস্কারটা করতে তারা পদার্থের প্রতি-ফেরোচুম্বকত্ব (Anti-ferromagnetic) ধর্মকে ব্যবহার করেছেন।তারা মাত্র ৯৮টি প্রতিফেরোচুম্বক অনু ব্যবহার করে “THINK” শব্দটির ASCII কোড কম্পিউটার মেমোরিতে জমা করেছেন।মানে তাদের ব্যবহার করা মেমোরি,বর্তমানে ব্যবহৃত মেমোরি থেকে প্রায় ১লক্ষগুন ছোট। এর মানে হল,বর্তমান থেকে প্রায় ১লক্ষগুন মেমোরি ডিস্ক বানানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।কিন্তু তার পরও আরও ৫-১০ বছর সময় লাগতে পারে বলা হয়েছে কারন পদার্থের প্রতি-ফেরোচুম্বকত্ব ধর্মটি শুধু হিমাঙ্কের নিচেই কাজ করে।আশাকরি কেউ নিজের কম্পিউটারকে শুধু বেশি মেমোরির জন্য বরফের মধ্যে রেখে কাজ করতে চাইবেন না।তাই গবেষকরা আরও কিছু সময় চেয়েছেন আবিস্কারটিকে সাধারন তাপমাত্রায় ব্যবহার উপযোগি করার জন্য।তবে তারা এও বলেছেন হয়ত অনুর সংখ্যা আরও কিছু বাড়িয়ে দিয়ে কিছুদিনের মধ্যই আবিস্কারটিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ব্যবহার উপযোগি করা যেতে পারে।তাতেই বা মন্দকি,কয়েক লক্ষগুন না হয়ে কয়েক হাজার গুন হলেও আমারা আমাদের কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য কয়েক লক্ষ গীগা-বাইট মেমোরি ডিস্ক পেয়ে যাব এবং মোবাইলেই কয়েক হাজার গীগা-বাইটের মেমোরি পাব।

বাঁচুন হ্যাকিংয়ের বহুল পরিচিত একটি ফাঁদ থেকে


আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব বহুল পরিচিত এবং বহুল ব্যাবহৃত একটি হ্যাকিং পদ্ধতির সাথে। আপনার সবারই এ বিষয়ে কিছু ধারনা আছে। পদ্ধতি টি হলো “ফিশিং” অনেকে আবার একে অনেক নামে ডেকে থাকেন। এই পদ্ধতিটি বিশ্বের নামি দামী হ্যাকাররাও ব্যাবহার করে থাকে। এই ফাঁদে পা দেওয়া অনেক সহজ। আপনার অজান্তেই হ্যাক হয়ে যাবে আপনার একাউন্ট।

এই পদ্ধতিতে মূলত মূল সাইটের মতো করেই হুবহু আরেকটা নকল সাইট তৈরি করা হয়। এই নকল সাইটে লগিন করলেই আপনার পাসওয়ার্ড চলে যাবে হ্যাকার দের হাতে। আপনারা অনেকেই হয়তো পা দিয়েছেন এই ফাঁদে।
পিশিং সাইট যেভাবে তৈরি করা হয়:
এ ধরনের সাইট তৈরি করতে হ্যাকাররা প্রথমে মুল সাইটের মতো করে আরেকটা সাইট তৈরি করে। নকল সাইট বানাতে তারা ঐ সাইটের লগিন পেজ মানে হোম পেজের HTML কোড বের করে। কোন পেজের HTML কোড বের করার বিভিন্ন সফটওয়্যার ও অনলাইন টুল আছে। তারপর তারা ঐ পেজের লগিন এরিয়াকে মেইল সেন্ডারে রুপান্তরিত করে (যেটাকে আমরা নিজেদের সাইটে email to admin হিসেবে ব্যাবহার করে থাকি)।. তারা ইউজার নেম এরিয়াকে মেইলের সাবজেক্ট ও পাসওয়ার্ড এরিয়াকে মেইলের মুল অংশ এবং লগিন বাটন কে সেন্ড বাটন হিসেবে সেট করে। এখন সাইট টিতে লগিন করলেই আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড চলে যাবে হ্যাকারদের ইমেইলে।
যেভাবে পিশিংয়ের ফাঁদে ফেলা হয়:
ধরুন আপনার যে ইমেইল ঠিকানা দিয়ে ফেসবুক বা অন্য কোন সাইটে রেজিষ্টেশন করা আছে। ঐ মেইলে আপনি ফেসবুক আপডেট পান। হ্যাকাররা ঠিক একই ধরনের মেইল লিখে আপনার মেইল ঠিকানায় পাঠাবে নকল সাইটের ইউ আর এল দিয়ে। তখন আপনি ওখানে ঢুকে লগিন করলেই আপনার নাম ও পাসওয়ার্ড পাচার হয়ে যাবে।
ফিশিং থেকে বাঁচবেন যেভাবে:
1. অপনি নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি মূল সাইটে লগিন করছেন। এজন্য সাইটের URL চেক করে নিন।
2. আপনার পাসওয়ার্ড ও নাম সেভ করা থাকলে। আপনার ব্রাউজার একমাত্র আসল সাইটেই তা প্রদর্শন করবে।

জনপ্রিয়তা না পাওয়া গুগলের কয়েকটি সার্ভিস ও পন্য


গুগল এবং এপল সাধারনত নতুন কোন সার্ভিস বা পন্য বাজারে ছাড়লেই প্রযুক্তির দুনিয়ায় ঝড় তুলে ব্যপক জনপিয়তা অর্জন করে। তবে কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও হয়। গুগলের এমন কিছু সার্ভিস আছে যেগুলো নিয়ে গুগল এবং পুরো প্রযুক্তি দুনিয়া অনেক আশাবাদী ছিল। কিন্তু সব কিছু মিথ্যা প্রমানিত করে সেগুলো চলে গেছে কথোপকথনের আড়ালে। গুগলের এমন কয়েকটি সার্ভিস সম্পর্কে চলুন জানা যাক।


Google Wave
ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারা পরিবর্তন করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে আবির্ভাব হয় গুগল ওয়েভের। ই-মেইল ব্যবহারের ধরনেরও পরিবর্তন হবে গুগল ওয়েভের মাধ্যমে এমনটি বলেছিল গুগল। তবে এটি কি দিতে পেরেছে এবং এর বর্তমান পরিনতি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি
Google Buzz
জি-মেইলের মধ্যে অন্তর্তভুক্ত গুগলে বাজ এর ধারনাটা কিন্তু মন্দ ছিলনা। ফেইসবুক, টুইটার অথবা ইয়াহু! এর সাথে এর প্রতিযোগিতা করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল এটি ফেইসবুক বা টুইটারের বিকল্প কিছু নয়। আবার অনেকেই চাননা তাদের জি-মেইলের কন্টাক্টগুলো একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কের কন্টাক্টে পরিনত হোক।
Nexus One
সম্ভবত এপলের iPhone এর সাথে প্রতিযোগীতা করার জন্য গুগল বাজারে নিজস্ব ফোন ছাড়ার ঘোষনা দেয়। কিন্তু আইফোনের সাথে এটি কোন প্রতিযোগীতায় আসা তো দুরের কথা, নিজের বাজার ধরে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে। তারা যতটা আশা করেছিল তার চাইতে ৭০% কম বিক্রি হচ্ছে নেক্সাস ফোন। এর ভবিষ্যত সম্পর্কেও নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।
Google Answer
২০০২ সালে শুরু করে ২০০৬ সালে বন্ধ করে দেয়া এই সার্ভিসটি সম্পর্কে অনেকে হয়তো জানেই না। এখানে কোন প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়ার জন্য $2 থেকে $200 পর্যন্ত দেয়া লাগতো। আশা করি বুঝতেই পারছেন এটি কেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
Orkut
ফেইসবুক, মাইস্পেস, টুইটার ব্যবহারকী অনেকেই অর্কুট এর নাম শোনেনি এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। ইন্টারনেট দুনিয়া কখনোই এটিকে খুব একটা গুরুত্বের সাথে নেয়নি। আর গুগলও সম্ভবত এটিতে খুব একটা মনযোগ দেয়নি। আর যখন দিয়েছে ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

রাতের আকাশ ও তারা পরিচিতি


সেই সে অতি প্রাচীন কাল থেকেই আকাশের তারাদের দিয়ে নানা প্রকারের ছবির কল্পনা করেছে মানুষ। আদি কালের যাযাবর জাতীর যাযাবর লোক খোলা আকাশের নিচে তাদের পালিত গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি রাতের পর রাত পাহারা দিতে দিতে আকাশে ফুটে থাকা অসংখ্যা অগুনিত তাঁরাদের দেখে দেখে এঁকেছে তাদের কল্পনার ছবি তাঁরাদেরই নিয়ে। নিজেদের আকা তাঁরাদের সেই সব ছবি নিয়ে দিনের বেলা হয়তো তারা কত গল্প করতো।

রাতের আকাশের তাঁরার মেলাতেই দেখা দিয়েছে তাদের মেষ, বৃষ। যাযাবর যুবকের চোখে তার প্রিয়াও তাঁরাদের মাঝেই স্থান করে নিয়েছে, শস্য চয়নরতা কন্যারাশি তারই স্বাক্ষী।আরো আছে মিথুন রাশি। কিন্তু কিভাবে শুরু হয়েছিলো ছবি আকার এই খেলা তা কেউ বলতে পারে না। হয়তো কোনো এক যুবক রাতের বেলা তাঁরাদের নিয়ে ছবি এঁকেছে আর পরদিন আবার তার বন্ধুদের ডেকে দেখিয়েছে। সেই বন্ধুরাও হয়তো আবার নিজেদের মত করে অন্য তাঁরাদের নিয়ে ছবি এঁকেছে। এমনি ভাবেই হয়তো এক জন থেকে আরেক জনে, এক দল থেকে আরেক দলে, এক বংশ থেকে আরেক বংশে, এক যুগ থেকে অন্য আরেক যুগে তাঁরাদের ছবি প্রচলিত হয়ে আসছে। আর সেইসব ছবিই আজ আধুনিক জ্যোতিবিদ্যার বইয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। যারা এই ছবি এঁকেছিলো তারা কবেই বিলিন হয়ে গেছে সময়ের গর্ভে কিন্তু তাদের আকা সেই সব ছবি হাজার হাজার বছর ধরেও পরিবর্তন হয়নি। কেউ জানেনা কখন কে কোন ছবিটি কল্পনা করেছিলো, কিন্তু আজো তাদের সেই নিদৃষ্ট তাঁরাদের দিয়েই সেই একই ছবি কল্পনা করা হচ্ছে। এমনি ভাবেই হাজার হাজার বছর ধরে প্রতিটি তারার ছবি সেই একই রয়ে গেছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অতি আদিম কাল থেকেই মানুষ যে রাতের তাঁরা ভরা আকাশের মোহে আকৃষ্ট হয়েছে তার প্রমাণ মিলে গুহামানবের গুহায় তাঁরাভরা আকাশের ছবি দেখে। আগেই বলেছি প্রাচীন কালের মানুষেরা তাঁরাদের নিয়ে আলোচনা করেছে, তাঁরার সাথে তঁরা মিলিয়ে নানান ধরণের ছবি কল্পনা করেছে। প্রতিটি সভ্যতার মানুষেরাই তাঁরাদের নিয়ে এই আলোচনা জারী রেখেছে। তারা তাঁরাদের সেই কাল্পনিক ছবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছে নানান ধরনের গল্প-কাহিনী, আবার কখনোবা তাদের মাঝে প্রচলিত কোনো গল্প-কাহিনীকে কেন্দ্র করেই আকাশের তাঁরাদের নিয়ে ছবি কল্পনা করেছে। সভ্যতাগুলি যখন আরো পরিপক্ক হয়েছে তখন তারা ধীরে ধীরে ঝুঁকেছে জ্যোতিষশাস্ত্রের দিকে, আর এই জ্যোতিষশাস্ত্র থেকেই জন্ম হয়েছে আমাদের আজকের আধুনিক জ্যোতিবিজ্ঞানের।
প্রচীন মানুষের কল্পনা করা তাঁরার ছবি আধুনিক জ্যোতিবিজ্ঞানও মেনে নিয়েছে। কিন্তু খুবই আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে – প্রাচীন সভ্য দেশগুলির কল্পনাকরা তাঁরার ছবি গুলির মধ্যেকার মিল গুলি। রাশিচক্রের বারোটি রাশির নাম ও গঠন প্রতিটি প্রাচীন দেশে প্রায় একই ছিলো এবং আধুনিক জ্যোতিবিজ্ঞানে সেগুলি আজো একই নামে পরিচিত।
আমাদের রাশিচক্র
পৃথিবী সূর্যের অন্যান্য গ্রহগুলির মতই সূর্যকে প্রদক্ষিন করছে। আমরা পৃথিবীর মানুষেরা পৃথিবীর এই ভ্রমণ বেগ বুঝতে পারিনা, বরং সূর্যকেই আকাশ পথে চলতে দেখি। সূর্যকে দিনের বেলে আকাশে একটি বৃত্তাকার পথে চলতে দেখা যায়। সূর্যের এই আপাত ভ্রমণ বৃত্তপথকে প্রাচীন প্রতিটি জাতী বারটি ভাগে ভাগ করেছে। কোনো দেশই বারোর কম বা বেশী ভাগে ভাগ করেনি। কোথায় গ্রীস আর কোথায় আমাদের ভারতবর্ষ, আর কোথাইবা মিসর। এই সমস্ত দূর দেশের মাঝে যখন যোগাযোগের কোনো সুযোগই ছিলো না তখন এই আশ্চর্য মিল সত্যিই অদ্ভূত মনে হয়, মনে হয় অলৌকিক কিছু রয়েছে এর পিছনে। যার ব্যাখ্যা আজো মেলেনি।
সূর্যপথের এই বারটি ভাগের বারটি নাম রয়েছে এবং এই বারটি অংশেই বারটি ছবি কল্পনা করা হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে শুধুমাত্র চীন ছাড়া, গ্রীস, মিসর, ক্যালডিয়া, আরব, ভারতবর্ষ প্রভৃতি দেশে এ বারটি অংশ এবং এদের নাম হুবুহু একই ছিলো এবং আছে, তাছাড়া তাদের ছবিও প্রায় একইরূপ। সূর্যপথের বারভাগের প্রতিটি ভাগকে রাশি বলে আর তাই সূর্যের ভ্রমণ পথকে রাশি চক্রও বলা হয়।
রাশিচক্রের বারটি রাশি
রাশিচক্রের রাশিগুলোর মধ্য দিয়ে সূর্যের আপত গতি।
বাংলা নাম >>> পাশ্চাত্ত্য নাম >>> রাশির ছবি
১. মেষ >>>>>এরিস >>>>>>> ভেড়া।
২. বৃষ >>>>> টরাস >>>>>>> বলদ।
৩. মিথুন >> >জেমিনী >>>>>> নর-নারী।
৪. কর্কট >>>> ক্যান্সার >>>>> কাঁকড়া।
৫. সিংহ >>>> লিও >>>>>> সিংহ।
৬. কন্যা >>>> ভার্জো >>>>>> কুমারী মেয়ে।
৭. তুলা >>>>লিব্রা >>>>>>> নিক্তি।
৮. বৃশ্চিক >>>স্করপিও >>>>>> কাঁকড়া বিছা।
৯. ধনু >>>>>স্যাজিটারিয়াস >>> ধনুক।
১০. মকর>>>>ক্যাপ্রিকর্নস >>>>> ছাগল।
১১. কুম্ভ >>>>একোয়ারিয়াস >>>> কলস।
১২. মীন >>>> পিসেস >>>>>>>> মাছ।


প্রাচীন কালের লোকদের কাছে রাশিচত্রের তাঁরামণ্ডলিগুলি ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই সময় এই রাশি চক্রের উপর চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান দেখেই মাস-ঋতু-বছর হিসাব করা হতো। প্রতি মাসেই সূর্য এক রাশি থেকে আরেক রাশিতে সরে যায়, ফলে সূর্য কোন রাশিতে তা দেখে সহজেই বুঝা যায় তখন কোন মাস চলছে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সূর্য কোন রাশিতে অবস্থান করছে তা বুঝবো কি করে!! দিনের বেলাতো সূর্যের আলোতে কোনো তাঁরাই দেখা যাবে না, তাহলে উপায়? উপায় অবশ্যই আছে, মোটামুটি সকলেই আমরা জানি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ থাকে টিক সূর্যের উল্টো দিকে। ফলে তখন চাঁদ যে রাশিতে থাকবে সূর্য থাকবে তার পরের ঠিক সপ্তম রাশিতে। ধরা যাক কোনো পূর্ণিমা রাতে আমরা দেখতে পেলাম চাঁদ রয়েছে মকর রাশিতে তাহলে সেই সময় সূর্য থাকবে কর্কট রাশিতে। কিন্তু এই পদ্ধতির একটি সমস্যা হচ্ছে, এর জন্য আপনাকে পুরো এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে আরো একটি সহজ উপায়ে আপনি প্রতি দিনই জেনে নিতে পারেন সূর্য কোন রাশিতে আছে।
মহাকাশের প্রতিটি তাঁরা, তাঁরামণ্ডলি, সূর্য ইত্যাদি জ্যোতিষ্কই ২৪ঘন্টায় এক বার মধ্যগমন করে। মধ্যগমন হচ্ছে-ঠিক মাঝ আকাশে অবস্থান করা। যা বলছিলাম- আমাদের সূর্য মধ্যগমন করে ঠিক দুপুরে। সুতরাং সূর্যের ঠিক উল্টো দিকের রাশিটি মধ্যগমন করবে ঠিক মাঝ রাত্রিতে। ফলে ঠিক মাঝরাত্রিতে রাশিচক্রের যে রাশিটি মধ্যগমন করবে তার আগের ঠিক সপ্তম রাশিতেই সূর্য সেই দিনের বেলাতে অবস্থা করেছিলো। তাই চাইলেই একজন লোক প্রতিদিন রাতেই দেখে নিতে পারি সূর্যের অবস্থান কোন রাশিতে। এভাবেই মূলতো প্রাচীন কালের লোকেরা হিসাব রাখতো।

সৌরজগতের সবেচেয়ে ছোট গ্রহ ‘বুধ’


বুধ গ্রহের ইংরেজী Mercury বা মার্কিউরী। বুধ হচ্ছে সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ। সূর্যের খুব কাছে হওয়ার ফলে বুধ পৃষ্ঠ থেকে সূর্যের দিকে তাকালে সূর্যকে পৃথিবীতে যত বড় দেখায় তার চেয়ে আড়াইগুণ বড় দেখা যাবে। সেই সাথে সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ হচ্ছে এই বুধ গ্রহ। এই কারণে বুধের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও অনেক কম, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে পৃথিবীতে যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে বুধে আপনার ওজন হবে প্রায় ২৩ কেজি। বুধগ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই। গ্রহটির কোনও স্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলও নেই। এটি সূর্যকে প্রতি ৮৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে অর্থাৎ পৃথিবীর হিসাবে মাত্র ৮৮দিনেই বুধের ১বছর পূর্ন হয়ে যায়, যেখানে পৃথিবীর লাগে ৩৬৫দিন।
মেরিনার ১০ কর্তৃক তোলা বুধের ছবি


বুধ দীর্ঘ ১৭৬ দিনে একবার নিজ অক্ষে আবর্তন করে, অর্থাৎ পৃথিবীর ১৭৬দিনে বুধের ১দিন সম্পন্ন হয়, যখানে পৃথিবীর সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘন্টা।। অন্যদিকে এর উজ্জ্বলতার আপাত মান ২.০ থেকে ৫.৫ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর আয়তন অন্যাতন্ত ক্ষুদ্র ও সূর্যের খুব নিকটে হওযায় পৃথিবী থেকে একে খালি চোখে অত্যান্ত কঠিন। সুর্যের সাথে এর বৃহত্তম কৌণিক দূরত্ব হচ্ছে মাত্র ২৮.৩ ডিগ্রী। তাই শুধু মাত্র সকাল ও সন্ধ্যায় একে দেখাতে পাওয়ার ক্ষিন সম্ভাবনা থাকে। বুধ গ্রহটি সম্বন্ধে তুলনামূলক অনেক কম তথ্য জানা গেছে। কারণ এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র দুটি অভিযান চালানো হয়েছে বুধের দিকে। এই দুটি অভিজানের একটি হচ্ছে- নভোযান “মেরিনার ১০”, যা ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে অভিযান চালায়। আর আরেকটি হচ্ছে- “মেসেঞ্জার” যা ২০০৪ সালের আগস্টের ৩ তারিখে প্রেরিত হয়। অপর আরেকটি অভিজানের প্রস্তুতি চলছে, জাপান ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সাথে যৌথভাবে একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছে যা বেপিকলম্বো নামে পরিচিত। এটি ২০১৩ সালে প্রেরন করা হবে বুধের উদ্দেশ্যে।

বুধের নামকরণ

সেই আদিকাল থেকেই এই গ্রহের ভারতীয় নাম “বুধ” -ই ছিল। ভারতীয় পুরান অনুযায়ী বুধ হল চন্দ্রের ছেলের নাম। অন্যদিকে রোমানরা এই গ্রহের নামকরণ করেছিল তাদের ক্ষীপ্রগতি বিশিষ্ট বার্তাবাহক দেবতা মার্কিউরির নামানুসারে। পৌরাণিক কাহিনীতে মার্কারি হল জুপিটার ও মেইয়ার পুত্র। ভেরের আকাশে ও গোধূলি লগ্নের আকাশে বুধকে অতি দ্রুত গতিতে চলতে দেখা যায় বলেই সম্ভবত এই নামকরণ করা হয়েছে।

বুধ গ্রহের পৃষ্ঠ দেশ

বুধের ভূ-ত্বকের পুরুত্ব ১০০ – ২০০ কিমি-এর মধ্যে। সৌরজগতের সমস্ত গ্রহের মধ্যে এর আকার সবচেয়ে ছোট; বিষুবীয় অঞ্চলে এর ব্যাস মাত্র ৪৮৭৯ কিমি। এখন পর্যন্ত প্রপ্ত সমস্ত তথ্য প্রমাণ আর চিত্রের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে বুধ গ্রহের পৃষ্ঠদেশ অনেকাংশেই আমাদের চাঁদের মত। বুধ গ্রহের পৃষ্টদেশ চাঁদের মতোই সাগর এবং খাঁদের অস্তিত্য রয়েছে। ধারনা করা হয় বুধ বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে ভূতাত্ত্বিকভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তবে আদিতে এই গ্রহটিতেও আগ্নায়গিরী সক্রিয় ছিলো। ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন সেই আগ্নায়গিরীর লাফা স্রতের পথটিকে।

আরো ধারোনা করা হয় চাঁদের মতোই সৃষ্টির পরপরই বুধ গ্রহে বিপুল পরিমাণ ধূমকেতু এবং গ্রহাণু আঘাত হানে। আজ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে সেই আঘাতের ঘনঘটার সমাপ্তি ঘটে ঠিকই কিন্তু আঘাতের এই সময়টিতে বুধের সমগ্র পৃষ্ঠদেশ আক্রান্ত হয় আর সেই ক্ষত চিহ্ন আজও রয়ে গেছে বুধের পৃষ্ঠ দেশে।
বড় কোনো ধুমকেতুর আঘাতে তৈরি হয়েছে বুধের এই ক্ষত, যেকান থেকে চারপাশে ছড়িয়েপরেছে বস্তুপিণ্ড। বুধ গ্রহে রয়েছে অনেক খাঁদ। এই খাঁদ গুলি কয়েক কিলোমিটার থেকে কয়েকশো কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হয়।
এখন পর্যন্ত জানা মতে সর্ববৃহৎ খাঁদটির ব্যাস প্রায় ১৩০০ কিমি।

বুধ গ্রহের বায়ুমণ্ডল

আগেই বলেছি বুধ গ্রহ খুবই ক্ষুদ্র। তাই বুধ গ্রহের পক্ষে কোন দীর্ঘ মেয়াদের বায়ুমণ্ডল গঠন ও তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। গ্রহটি ক্ষুদ্র হওয়ার কারণে এর অভিকর্ষ বল খুবই কম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় বুধেরও অতি সূক্ষ্ণ ও হালকা দুর্বল একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে যার প্রধান উপাদান হচ্ছে: হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম। দুর্বল বায়ুমণ্ডলের কারণে বুধের আকাশ প্রায় সবসময়ই কালো দেখা যাবে। আর তাই দিনের বেলাতেও বুধের আকাশের দিকে তাকালে অসংখ্য তারা দেখা যাবে। তাছাড়া এই বায়ুমণ্ডলটি সুস্থিত নয়। বায়ু মণ্ডলের পরমাণুগুলো নিরন্তরভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং আবার বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে শূন্যস্থান পূরণ করে নিচ্ছে। হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম পরমাণু সম্ভবত সৌর বায়ু থেকে উৎপন্ন হয়ে বুধের চুম্বক গোলকে আটকে যায়। কিন্তু পরে আবার এগুলো মহাশূন্যে হারিয়েও যায়। বুধের ভূ-ত্বকে বিদ্যমান পদার্থগুলোর তেজস্ক্রিয় ভাঙন হিলিয়ামের একটি উৎস। আবার এই ভাঙন থেকেই সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামও সৃষ্টি হয়। বুধে সম্ভবত বাষ্পও রয়েছে। এর পৃষ্ঠের সাথে ধূমকেতুগুলোর সংঘর্ষের কারণে এই বাষ্পের সৃষ্টি হয়।

বুধ গ্রহের তাপমাত্রা

বুধগ্রহের তাপমাত্র আমাদের পৃথিবীর মতো স্থিতিশীল নয়। কারণ পৃথিবীর মতো বুধে কোনো বায়ু মণ্ডল নেই। বুধ গ্রহের পৃষ্ঠদেশের গড় তাপমাত্রা ৪৫২ কেলভিন বা ৩৫৩.৯ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১৭৮.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় টিন ও সীসা পর্যন্ত গরে যেতে পারে। তবে এই মান স্থানভেদে ৯০ কেলভিন থেকে ৭০০ কেলভিনের পর্যন্ত উঠানামা করে থাকে। এই হিসাব থেকে বুঝা যায় বুধ পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৬১০ কেলভিন পর্যন্ত উঠানামা করে যেখানে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৮০ কে পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। একেতো বুধের কোন বায়ুমণ্ডল নেই, তার উপর আবার পৃথিবীর তুলনায় বুধ পৃষ্ঠে সূর্য রশ্মির তীব্রতা ৬.৫ গুণ বেশী। তবে এই সমানুপাতিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সৌর ধ্রুবক রয়েছে যার মান ৯.১৩ কিলোওয়াট/বর্গমি.।. বুধের বায়ুমণ্ডরের অভাবে এই তাপমাত্রা রাতে মাইনাস ১৭০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত নেমে যায়। সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান হচ্ছে অর্ধসৌর বিন্দু এবং শীতলতম স্থান হল এর মেরুর নিকটে অবস্থিত খাদসমূহের নিম্ন বিন্দু।
মজার বিষয় হচ্ছে বুধ পৃষ্ঠের এত উচ্চ তাপমাত্রা থাকা স্বত্তেও বুধ গ্রহে বরফ থাকতে পারে। বুধের মেরুর নিকটে অবস্থিত কিছু গভীর খাঁদের সমতলে সূর্য রশ্মি কখনও সরাসরি পৌছায় না। এতে সেখানকার খাঁদগুলির তাপমাত্রা সবসময়ই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে। এর ফলে সেখানে বরফের সৃষ্টি হয়। পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীদের প্রেরিতো রাডার সংকেত বুধ গ্রহের মেরুর সন্নিকটে অবস্থিত বরফ খণ্ড থেকে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। তবে এই সংতেক প্রতিফলনের কারণ বরফ ছাড়া অন্য কিছুও হতে পারে। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি বরফ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। ধারনা করা হয় বুধ গ্রহের মেরুর সন্নিকটে অবস্থিত খাঁদগুলিতে বরফের আবরণের পুরুত্ব মাত্র কয়েক মিটার। আশা করা হচ্ছে সেখানে ১০^১৪ থেকে ১০^১৫ কেজির মত বরফ রয়েছে। পৃথিবীর ও মঙ্গলের সাথে এই বরফের পরিমাণের তুলনা করলে দেখা যাবে- পৃথিবীর এন্টার্কটিকায় বরফের পরিমাণ ৪×১০^১৮ কেজি আর মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে বরফের পরিমাণ প্রায় ১০^১৬ কেজি। বুধ গ্রহে বরফের উৎপত্তির কারণ এখনো অজানা, তবে দুইটি সম্ভাব্য কারণ ব্যথ্যা করা হয়।
১. গ্রহের অভ্যন্তরভাগ থেকে পানির চুয়িয়ে চুয়িয়ে বেরিয়ে আসা এবং ঠান্ডায় জমে বরফে পরিন্ত হওয়।
২. ধূমকেতুর সাথে সংঘর্ষের ফলে জমা হওয়া পানি ও অন্যান্য বস্তু থেকে বরফের উপাদান।

বুধের অভ্যন্তরীন গঠন

সৌর জগতের গ্রহগুলির মধ্যে চারটি গ্রহ কঠিন বস্তু দ্বার গঠিত, এদেরকে পার্থিব গ্রহ বলা হয়। পার্থিব গ্রহগুলির আকারের তুলনা, বাম দিক থেকে বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মোঙ্গল গ্রহ।
বুধ চারটি পার্থিব গ্রহের একটি অর্থাৎ এরও পৃথিবীর মত কঠিন পৃষ্ঠদেশ রয়েছে। বুধের যেসমস্ত উপাদান দিয়ে গঠিত তার মধ্যে ৭০ ভাগ ধাতব আর বাকি ৩০ ভাগ সিলিকেট জাতীয়। বুধের ঘনত্ব সৌর জাগতিক বস্তসমূহের ঘনত্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৫.৪৩ গ্রাম/সেমি; পৃথিবী থেকে সামান্য কম। আমাদের সৌর জগতের অন্যান্য বৃহৎ গ্রহগুলোর যে কোনটির তুলনায় বুধে লৌহের পরিমাণ অনেক বেশী। বুধ যদিও ছোট একটি গ্রহ তথাপিও এর কেন্দ্রকণা পৃথিবী বা অন্য যে কোনো বড় গ্রহের তুলনার অনেক বড়। এই কেন্দ্রটি লৌহ কেন্দ্র । বুধের সমগ্র আয়তনের ৪২ ভাগই হচ্ছে এর কেন্দ্র। যেখানে পৃথিবীর কেন্দ্র মাত্র ১৭%।

কক্ষপথ ও ঘূর্ণন

প্রধান গ্রহগুলোর মধ্যে বুধের কক্ষপথ সবচেয়ে উৎকেন্দ্রিক। সূর্য থেকে এর দূরত্ব ৪৬,০০০,০০০ থেকে ৭০,০০০,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। নিজের কক্ষপথে চারদিকে একবার ঘুরে আসতে এর সময় লাগে ৮৮ দিন। চিত্রটিতে বুধের কক্ষপথের উপর উৎকেন্দ্রিকতার প্রভাব দেখানো হয়েছে।

অনুসূরের অগ্রগমন

আমরা জানি বুধের আবর্তন কাল ৮৮ দিন। কিন্তু পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায়, এর কক্ষপথের ধীর পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনটির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বুধের অনুসূর বিন্দুর পরিবর্তনের মাধ্যমে। এই ঘটনাটি বুধের অনুসূরের অগ্রগমন নামে চিহ্নিত। এর পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ১ডিগ্রী৩৩’২০”।. এই অগ্রগমনের একটি কারণ হচ্ছে ভূ-কক্ষের বিষুবন বিন্দুর অগ্রগমন। এই কারণটিই মুখ্য। এছাড়া শতকরা ৭ থেকে ১০ ভাগ অগ্রগমনের কারণ হচ্ছে অন্যান্য গ্রহের আকর্ষণ। প্রতি একশ বছরে বুধের অনুসূর বিন্দু ৪৩ পরিমাণ অগ্রসর হয়। নিউটনীয় বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এর কোন ব্যাখ্যা প্রদান সম্ভব হয় নি। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করতেন বুধ ও সূর্যের মাঝখানে অন্য কোন গ্রহ আছে। পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে বলেন, সূর্যের অবস্থিতির জন্য স্থান-কাল মহাশূন্যে একটি বক্রতার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ নিউটনীয় নীতি এই বক্রতারই ফল। সূর্যের চারদিকে উক্ত বক্রপথে যেতে বুধের কক্ষের পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে এর অনুসূর বিন্দুর অগ্রগমন ঘটে। এই তত্ত্ব অনুসারে অগ্রগমনের পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ৪৩.০৩ যা মূল পরিমাণের সাথে সুন্দরভাবে মিলে যায়। তাই বুধের অনুসূরের অগ্রগমন বর্তমানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের একটি প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

বুধ গ্রহ পর্যবেক্ষণ

বুধ গ্রহের আপাত মান ২.০ (লুব্ধক-এর চেয়ে বেশী) থেকে ৫.৫ এর মধ্যে থাকে। সূর্যের অতি নিকঠে অবস্থিত বলে একে পর্যবেক্ষণ করা বেশ দুঃসাধ্য। কারণ সূর্যের অত্যুজ্জ্বল আলোর কারণে অনেকটা সময় বুধকে দেখাই যায় না। ভোর বা সন্ধ্যার ক্ষীণ আলোতেই কেবল বুধকে দেখা যায়। হাবল মহাশূন্য দূরবীন বুধ গ্রহকে কখনই পর্যবেক্ষন করতে পারে না। নিরাপত্তার কারণেই হাবল দূরবীনকে সূর্যের দিকে ফোকাস করা হয়না। পৃথিবী থেকে যেমন চাঁদের কলা দেখা যায়, তেমনি বুধেরও কলা রয়েছে।

কিন্তু নবীন এবং পূর্ণ থাকা অবস্থায় বুধকে দেখা যায় না। কারণ এ সময় এই গ্রহটি সূর্যের সাথেই উদিত হয় এবং অস্ত যায়। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণ গোলার্ধে বুধ গ্রহকে ভালভাবে দেখা যায়। দক্ষিণ গোলার্ধের যে দেশগুলো থেকে বুধ গ্রহকে স্পষ্ট দেখা যায়ৱএর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা এবং নিউজিল্যান্ডের মত দেশগুলো। অবশ্য একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় অন্যান্য কয়েকটি গ্রহ এবং উজ্জ্বল তারার মত বুধ গ্রহকেও স্পষ্ট দেখা যায়।
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি সর্বপ্রথম পৃথিবী থেকে দূরবীনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, সপ্তদশ শতাব্দীতে। তিনি শুক্র গ্রহের কলা পর্যবেক্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন; কিন্তু তার দূরবীনটি বুধের কলা দেখার মত শক্তিশালী ছিল না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে একটি অতি বিরল ঘটনা হচ্ছে পৃথিবীর সাপেক্ষে একটি গ্রহ অন্য একটি গ্রহের সামনে এসে পড়ে এবং এর ফলে একটি গ্রহ অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাটিকে অদৃশ্যকরণ বলে। কিন্তু বুধ এবং শুক্র গ্রহ কয়েক শতাব্দী পরপরই একে অপরকে অদৃশ্য করে দেয়। শুক্র কর্তৃক বুধ গ্রহের পরবর্তী অদৃশ্যকরণের ঘটনা ঘটবে ২১৩৩ সালে।

বুধের উদ্দেশ্যে প্রেরিত সন্ধানী যান সমূহঃ

বুধের উদ্দেশ্যে পৃথিবী থেকে প্রেরিত একটি মহাকাশযানকে সূর্যের মহাকর্ষীয় বিভব উৎসের দিকে অবশ্যই ৯১ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করতে হবে। বুধের নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী একটি Hohmann transfer orbit-এর ভিতর প্রবেশ করতে হলে সন্ধানী যানটিকে একটি নির্দিষ্ট গতিবেগ অর্জন করতে হবে।
পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরোবার সময় এর বেগ থাকে পৃথিবীর কক্ষীয় বেগের সমান অর্থাৎ প্রায় ৩০ কিমি/সে। বুধের পাশের Hohmann transfer orbit-এ প্রবেশ করতে যে বেগ প্রয়োজন তা অর্জনের জন্য এক্ষেত্রে বেগের প্রচুর পরিবর্তন করতে হয়, যতটা অন্য কোন গ্রহে অভিযানের ক্ষেত্রে করতে হয়না। এজন্যই বুধ অভিযান অন্যান্য অভিযানের তুলনায় বেশি কষ্টকর। প্রকৃতপক্ষে পুরো সৌর জগৎ অতিক্রম করতে একটি মহাকাশযানকে যে পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করতে হয় তার চেয়ে বুধে অবতরণ করাতে হলে বেশি শক্তি দিতে হয়। বুধ গ্রহের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত দুটি মহাশূন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আর তৃতীয় একটি অভিযানর প্রস্ততি চলছে। অভিজান গুলি হচ্ছে-

মেরিনার ১০

বুধ গ্রহ অভিযানে প্রেরিত প্রথম মাজাগতিক সন্ধানী যানের নাম “মেরিনার ১০”।. মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ১৯৭৩ সালের ৮ই নভেম্বর এই যান প্রেরণ করে। এটি ১৯৭৪ সালের ১৯শে মার্চ বুধের৭৫০ কিমি দূরত্বে গিয়ে পৌছায়। পরে ২১শে সেপ্টম্বর ১৯৭৪ এবং ১৬ই মার্চ ১৯৭৫ সালে বুধে সবচেয়ে কাছে পৌছায়। এজন্য “মেরিনার ১০” শুক্র গ্রহের অভিকর্ষকে কাজে লাগিয়েছে। মূলত শুক্রের অভিকর্ষকে কাজে লাগিয়ে “মেরিনার ১০” তার কক্ষীয় বেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বুধের দিকে অগ্রসর হতে পেরেছে।

মহাকর্ষীয় স্লিংশট নামক এই প্রভাব “মেরিনার ১০”ই প্রথমবারের মত ব্যবহার করেছে। “মেরিনার ১০” প্রথমবারের মত বুধের অতি কাছ থেকে প্রচুর ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত মেরিনার ১০এর কক্ষীয় পর্যায় ঠিক বুধের ৩ নাক্ষত্রিক দিনের সমান ছিল। এর কারণে “মেরিনার ১০” যখনই বুধের কাছাকাছি হতে পেরেছে তখন সবসময়ই বুধের একটিমাত্র পৃষ্ঠ মহাকাশযানটির সামনে আসতে পেরেছে। ফলস্বরুপ বুধের সমগ্র পৃষ্ঠের মাত্র ৪৫% মানচিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা সম্ভব হয়েছে।
সন্ধানী যানটি তিন তিনবার বুধের খুব সন্নিকটে যেতে পেরেছিল। এর মধ্যে নিকটতম ছিল বুধ পৃষ্ঠের ৩২৭ কিমি দূর পর্যন্ত। প্রথমবার কাছে যাওয়ার মাধ্যমে “মেরিনার ১০” বুধে একটি অভাবনীয় চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্ব আবিষ্কার করে। দ্বিতীয়বার যখন মেরিনার ১০ বুধ এর খুব সন্নিকটে যায় তখন বুধ পৃষ্ঠের প্রচুর ছবি তোলা সম্ভব হয়। কিন্তু তৃতীয়বার নিকটবর্তী হওয়াটা ছিল আরও কার্যকরী। কারণ তখন গ্রহটির চৌম্বক ধর্ম সম্বন্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত জানা সম্ভব হয়। উপাত্তগুলো থেকে বোঝা যায়, গ্রহটির চৌম্বক ক্ষেত্র অনেকটা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মত যা গ্রহের চারপাশের সৌর বায়ুকে পথচ্যুত করতে পারে। শেষবারের মত বুধের সন্নিকটে যাওয়ার পর “মেরিনার ১০”-এর জ্বালানী প্রায় ফুরিয়ে যায়। এর ফলে পৃথিবী থেকে এই অভিযানের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। অবশেষে পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অভিযানের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। মূলত পৃথিবী থেকে সংকেত দেয়া হয়েছিল যেন, “মেরিনার ১০” নিজেই নিজের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। ধারণা করা হয় “মেরিনার ১০” এখনও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এবং প্রতি কয়েকমাসে একবার করে বুধ গ্রহের সন্নিকটে যাচ্ছে।

মেসেঞ্জার

বুধের উদ্দেশ্যে নাসা কর্তৃক প্রেরিত দ্বিতীয় অভিযান ছিল মেসেঞ্জার। “MESSENGER” শব্দটি এসেছে – MErcury Surface, Space ENvironment, GEochemistry, and Ranging থেকে। এটি ২০০৪ সালের আগস্টের ৩ তারিখে প্রেরিত হয়। এই সন্ধানী যানটি বেশ কয়েকবার বুধের সন্নিকটে যেতে সমর্থ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি বুধের চারদিকে নিজস্ব একটি কক্ষপথ তৈরীতে সমর্থ হয়। ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে এটি পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যায় এবং ২০০৭ সালের অক্টোবর ও জুন মাসে শুক্র গ্রহের কাছ দিয়ে উড়ে যায়। এই যানটি বুধের নিকট দিয়ে তিন তিনবার উড়ে যাবে বলে শিডিউল করা হয়েছে। এই উড়ে যাওয়ার সময়গুলো হবে জানুয়ারি ২০০৮, অক্টোবর ২০০৮ এবং সেপ্টেম্বর ২০০৯। এর পর তা ২০১১ সালের মার্চ মাসে বুধ গ্রহের চারপাশে কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

মেসেঞ্জারের ভ্রমণ পথ
মেসেঞ্জারকে পাঠানো হয়েছে মূলত বুধের ছয়টি মৌলিক বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য। এগুলো হচ্ছে:
১. বুধের উচ্চ ঘনত্ব,
২. এর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস,
৩. এর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রকৃতি,
৪. এর কেন্দ্রের গঠন,
৫. এর মেরু অঞ্চলসমূহে আসলেই বরফ রয়েছে কিনা,
৬. এবং এর পাতলা বায়ুমণ্ডল কোথা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
মেসেঞ্জার যখন বুধ গ্রহের চারপাশে দ্বিতীয়বারের মত প্রদক্ষিণ করে সে সময় অনেক কাছ থেকে বুধ গ্রহের ১২০০ এরও বেশী ছবি তোলা হয়৷ এসব ছবি থেকে বিজ্ঞানীরা বুধ গ্রহ সম্পর্কে আরো অজানা তথ্য জানতে পারছেন৷ তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বুধ গ্রহের ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ গর্ত।

বেপিকলম্বো

জাপান ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সাথে যৌথভাবে একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছে যা বেপিকলম্বো নামে পরিচিত। এই অভিযানে দুই সন্ধানী যান ব্যবহৃত হবে যারা বুধের কক্ষপথ পরিভ্রমণ করবে। দুটি সন্ধানী যানের একটি বুধের মানচিত্র প্রণয়নের কাজ করবে এবং অপরটি এর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। একটি ল্যান্ডার সহ মূল পরিকল্পনাটি করা হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার সয়ুজ রকেটসমূহ এই সন্ধানী যানটি বহনের কাজ করবে। মেসেঞ্জারের সাথেই বেপিকলম্বো বেশ কয়েকবার বুধের অতি সন্নিকটে যাবে। একইভাবে এটি চাঁদ এবং শুক্র গ্রহের নিকট দিয়ে উড়ে গিয়ে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করার পূর্ব বেশ কয়েকবার এর নিকটবর্তী হবে। আনুমানিক ২০১৯ সালের দিকে এটি বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং প্রায় এক বছর ধরে একে অধ্যয়ন করবে। এই অভিযানটির নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী গিউসেপ (বেপি) কলম্বোর (Giuseppe Colombo) নামানুসারে। তিনিই প্রথম সূর্যের সাথে বুধের কক্ষীয় রেজোন্যান্স নির্ণয় করেছিলেন।

এবার গাছে উঠবে রোবট


রোবটিক গবেষনায় যেভাবে বিভিন্ন দেশ এগিয়ে চলেছে তাতে বলা যায় ভবিষ্যতে হয়তো পৃথিবীটাতে রোবটের রাজত্ব থাকবে। এর এরই ধারাবাহিক উন্নতির সাথে সাথে এবার আবিষ্কৃত হলো সাপ রোবট। Carnegie Mellon’s Biorobotics Lab এ সাপ আকৃতির রোবটটি এ উদ্ভাবিত হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে ‘আঙ্কেল স্যাম’

এই রোবটটি বিভিন্নভাবে পথ অতিক্রম করতে পারে। এটি আড়াআড়িভাবে পথ অতিক্রম ও লম্বলম্বিভাবে গাছে উঠতে পারে। মূলতঃ সাপের বিভিন্ন পদ্ধতিতে পথ চলার উপরে গবেষনা করে এই রোবটটি তৈরী করা হয়। এর সামনের দিকে ক্যামেরা আছে যার মাধ্যমে সামনের বস্তু সম্পর্কিত ধারনা লাভ করে।

ভিডিওটিতে দেখা যাক রোবটের চলার পদ্ধতিঃ
মানুষের মতো রোবট বানানোর চেয়ে এই রোবট অনেক সহজভাবে কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে যেসব পথে যানবাহন চলাচল কঠিন সেখানে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য এটি বেশ কাজে দিবে। এছাড়াও ভুমিকম্প কবলিত দালানে জীবিত ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার কাজেও এটি সহায়তা করতে পারবে। তবে প্রাথমিকভাবে এর অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে পাওয়ার সাপ্লাই। অদূর ভবিষ্যতে এর পাওয়ার সাপ্লাই সহ আরো বিভিন্ন দিকের উন্নত করে বাজারজাত শুরু হয়েও যেতে পারে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা।

লাল পিঁপড়ার অলৌকিক ক্ষমতা


লাল পিঁপড়া বা বিষ পিঁপড়া (Fire Ant) নামে পরিচিত এক পিঁপড়াদের একটি প্রজাতিতে রয়েছে চরম একতা । এই ক্ষুদ্র প্রানীদের বুদ্ধিমত্তা দেখে অনেকেই অবাক। প্রায় সব প্রজাতীর পিঁপড়াদেরই দলবদ্ধ হয়ে বসবাস ও খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু মজার মজার অনুশীলন যা শুধু মাত্র বিপদের দিনেই দেখা যায়। কাউ আক্রমণ করার ক্ষেত্রেও একত্রিত হয়ে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দৃষ্টান্ত দেখুন।
পনিতে ভেসে থাকা
একটি পিঁপড়া সহজেই জলে ডুবে যেতে পারে। তবে তারা দলবদ্ধ হয়ে জলে অনায়াসে ভেসে থাকতে পারে। বন্য জলোচ্ছ্বাস বা যে কোন কারনে তাদের ঘর বাড়ি ভেসে গেলে তারা খুব দ্রুত একে অপরের সাথে তাদের পা দিয়ে একটি জালের মতো অবস্থান তৈরী করে। যাতে করে কেউই ডুবে মারা যায় না। এমনকি সবার নিচে যে পিঁপড়াটি থাকে তারও কোন সমস্যা হয় না।
জার্জিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজীর এমলট কিছু পিঁপড়ার উপরে পর্যবেক্ষণে বিষয়টি নিশ্চত হন। পিঁপড়াদের বাসায় জল ঢালার পরে দেখা যায়-সব পিঁপড়া তাদের ডিমগুলোকে একত্রিত করে একে অপরের সাথে সবগুলো ডিমও তারা নিজেরা ধরে রাখে এবং সহজেই ভেসে থাকে।
এমন কি কোন একটি পিঁপড়া জলে ডুবে যাওয়ার পরেও তাদের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং জলের নিচে তাদের অন্যান্যরা থাকলে তাদের সাথে যুক্ত হয়ে ভেসে ওঠে।
তাদের এই একতার মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি দেখে নেই

এক.

পিঁপড়াদের এলাকা বন্যায় প্লাবিত হলে তারা এভাবেই একত্রিত হয়

দুই.

একত্রিত হয়ে এখন তারা দিব্যি ভেসে বেড়াচ্ছে

তিন.

কোন গাছের কান্ড ভেঙে পড়লে সেটাকেও ভাসিয়ে রাখার প্রচেষ্টা করে তারা, এবং সবাই মিলে একসাথে

চার.

জলের নিচে বাতাস আছে এমন কোন বস্তু পেলেও সেখানে তারা একত্রিত হয়, ঠিক এভাবে

পাঁচ.

পরীক্ষা করার জন্য এই পিঁপড়াটিকে জলের  নিচে সুতা দিয়ে বেধে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখনও সে তার সুং গুলোকে প্রসারিত করে রেখেছে,  অন্য কাউকে পেলে একত্রিত হবে এই প্রত্যাশায়।

ছয়.

জলের উপরে হেটে চলার প্রচেষ্টা।

সাত.

নিজেরাই নিজেদের রাস্তা তৈরী করছে.. শূন্য যাওয়ার জন্য মানুষের মতোই যেন প্রচেষ্টা

আট.

হাতে হাতে বন্ধনকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে

নয়.

এবার হয়ে যাক এক কাপ পিঁপড়ার চা…
(আপাততঃ দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে আপনি চা খাবেন, অথচ তারাই চা খাচ্ছে  )

উড়ন্ত টিকটিকি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রানী জগতে সবাইকে স্বাগতম। অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে হলেও বিভিন্ন প্রানীর সাথে সবাইকে পরিচয় করার প্রয়াস চলছে অনেক আগে থেকেই। আজ উড়ন্ত টিকটিকি (Draco Lizard) সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। আট ইঞ্চি এই প্রানীর শরীরটা অনেকটা ভয়ানক ও চলাফেরায় রয়েছে রাজকীয় ভাব। খুব দ্রুত এক ডাল থেকে অরেক ডালে লাফ দেওয়া ও অনেকটা বাদুরের মতো উড়াল দেওয়ার চৌকশ কৌশল আছে তাদের।এ কারনে এদের উড়ন্ত ড্রাগনও বলা হয়।

বাতাসে ভেসে বেড়ানোর জন্য তাদের দুইটি পাখা ও দ্রুত লাফালাফিতে তাদের লম্বা লেজ সহায়তা করে। এই টিকটিকি সাধারনত মাটিতে নামে না তবে মাটিতে ডিম পেরে ঢেকে রাখে। প্রজনন ও বসবাসের জন্য গভীর জঙ্গলকেই তারা ভালবাসে।
এরা সাধারনতঃ পিঁপড়া ও পোকামাকর খেয়ে জীবন ধারন করে। অনেক সময় সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রানীর খাদ্য হিসেবে তাদেরকে জীবনদিতেও হয়।  এদের সাধারনতঃ এশিয়ার ফিলিপাইন, ভারত, বাংলাদেশের গভীর বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।

নীরব ও ঘাতক “হেপাটাইটিস সি” ভাইরাস


হেপাটাইটিস এ এবং বি- এর কথা কম-বেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু হেপাটাইটিস সি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় হেপাটাইটিস সি আসলে নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হেপাটাইটিস সি। কারণ এই রোগের কোন টিকা এখনো আবিস্কার হয়নি। এমনকি হেপাটাইটিস সি’র চিকিৎসার জন্য যে ঔষুধ আবিস্কার হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি রোগীর কাজে লাগে না। যেসব রোগী ঐ ঔষুধ সেবনে আগ্রহী, তাদের ঔষুধ কিনতে অনেক কাটখড় পোহাতে হয়। কারণ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে প্রতি সপ্তাহে একবার পিজিলেটেড ইন্টারফেরন নামের একটি ইনজেকশন নিতে হয় টানা এক বছর ধরে।
অর্থাৎ ৫২ সপ্তাহ ধরে চলে এই চিকিৎসা। সঙ্গে রাইবাভিরিন নামের আরেকটি ঔষুধ। প্রতিটি ইনজেকশনের দাম প্রায় ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের নেই। গরীব মানুষের পক্ষে এই চিকিৎসার বোঝা বহন করা কখনোই সম্ভব নয়। ১৯৮৯ সালের আগে কেউ হেপাটাইটিস সি’র নামই শোনেনি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১৫ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস সি-এ আক্রান্ত। এই তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। হেপাটাইটিস সি মরণ রোগ হিসেবেই চিহ্নিত।

সচেতনতার অভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে এক শরীর থেকে আরেক শরীরে। অনেকটা এইচআইভি’র মতো। ব্লাড ট্রান্সফিউশন, ইঞ্জেকশনের সুচ, নিরাপদ নয় এমন যৌন সম্পর্কের কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়। সেক্ষেত্রে নবজাতকেরও এই রোগ হতে পারে। আর মা যদি এর সঙ্গে এইচআইভি ও বহন করে, সেক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শিশুর হেপাটাইটিস সি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত রোগীর চোখ যে সব সময় হলুদ হবে এমন নয়। মাত্র ১৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে চোখ হলুদ হয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীকে দেখে হেপাটাইটিস সি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। হেপাটাইটিস বি-র তুলনায় এ রোগ অনেক বেশি ক্ষতিকারক। হেপাটাইটিস সি’র জীবাণু দীর্যস্থায়ী হিসাবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে থেকে যায়। সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে সিরোসিস প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার যারা সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে বছরে ৪ শতাংশের লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নখ পর্যবেক্ষণ করে নিরূপণ করুন আপনার স্বাস্থ্য


সুস্থ্য থাকতে কে না চায় ? সুস্থ্য থাকার জন্য নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেয়াটা একান্ত জরুরী। আর এ জন্য মাঝে মাঝেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত মেডিকেল চেক আপের জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় রোগ না হলে বেশির ভাগ মানুষই ডাক্তারের কাছে যান না, নিছক অর্থ নষ্ট হবে মনে করে। আবার অনেকে আলসেমী করেও চেক আপ করান না, আর অনেকেতো সময়ই পান না ব্যস্ততার জন্য। তবে যে কারণেই চেক আপ করা বিরত থাকুন না কেন, যারা চেক আপ করাতে পারছেন না, হোক সেটা সময়ের অভাবে বা অন্য কোনো কারণে, তারা খুব সহজেই কোনো কোনো রোগের ব্যাপারে নিজের নিজের চেক আপ নিজেই করতে পারেন। এ কাজটি করা যায় আপনার নখ দেখে। কি, অবাক হচ্ছেন ? বন্ধুরা, অবাক হওয়ার কিছু নেই। মানুষের শরীরের বিভিন্ন রোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার হাত বা পায়ের নখের আচরণ বিভিন্ন রকম আচরন করে থাকে, অর্থাৎ, বিভিন্ন রোগের প্রভাব নখেও পড়ে যা দেখে আপনি ঐ রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

ফ্যাকাশে নখঃ কারো কারো নখের অগ্রভাগ মাত্রাতিরিক্ত ফ্যাকাশে হয়ে থাকে।

এ ধরনের নখ শরীরের নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর লক্ষনগুলো প্রকাশ করে থাকে।
* রক্তাল্পতা
* কনজাস্টিভ হার্ট ফেইল্যুর
* যকৃত বা লিভারের রোগ
* পুষ্টিহীনতা

সাদা রঙের নখঃ কোনো কোনো ক্ষেত্রে নখ সাদা রঙ ধারণ করতে পারে।

এ ধরনের নখ লিভারের সমস্যা যেমন, হেপাটাইটিস বা জন্ডিস এর ইঙ্গিত করে থাকে।

হলুদ নখঃ হলুদ নখ বিশেষ কিছু সমস্যার ইংগিত করে থাকে।


এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে ছত্রাকের আক্রমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ক্ষত্রে নখ হ্লুদ হওয়ার পাশাপাশি নখের পুরুত্ব হ্রাস পায়। তবে কদাচিত ক্ষেত্রে হলুদ নখ আরো বিশেষ সমস্যা যেমন থাইরয়েড বা ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস বা সোরিয়াসিস এর লক্ষ হিসেবে প্রকাশ পায়।

নীল নখঃ কোনো কোনো ক্ষেত্রে নখে নীল রংয়ের ছোপ দেখা যায়।
এর মাধ্যমে বুঝতে হবে আপনার শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। আর অক্সিজের স্বল্পতা হয়ে থাকে ফুসফুসের রোগ, নিউমোনিয়া, অথবা হার্টের কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

খাদ যুক্ত নখঃ কোনো কোনো সময় আপনার নখে খাদ দেখে থাকতে পারেন।

এটা হল সোরিয়াসিস বা জ্বালাময়ী বাতের পূর্ব লক্ষণ। এক্ষেত্রে নখের নিচের চামড়া লালচে বাদামী রঙ ধারণ করে। মাঝে মাঝে নখ বিবর্ণও হয়।

ভংগুর বা ফাটল ধরা নখঃ মাঝে নখে ফাটল ধরে বা ভংগুর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যার কারণের এমন হতে পারে। ফাটল ধরা, ভাঙ্গা হলুদাভ নখ ছত্রাকের আক্রম্রনের ইংগিত করে।

স্ফীত কিনারা বিশিষ্ট নখঃ কোনো কোনো নখের কিনারা মাঝে মাঝে স্ফীত ও লালচে হতে পারে।

টিস্যুগত সমস্যার জন্য এটি হয়। এক্ষেত্রে উক্ত স্থানে জ্বালাপোড়াও হতে পারে।

নখের নিচে গাঢ় রেখাঃ এ ধরনের অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক অবস্থার প্রকাশ করে থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে জরুরী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

এ ধরনের নখ মেলানোমা নামের মারাত্বক স্কিন ক্যান্সারের লক্ষন প্রকাশ করে।

চিবানো-বিধ্বস্ত নখঃ নখ কামড়ানো অনেকের একটি সাধারণ পুরোনো স্বভাব।
বে মাঝে মাঝে এটি স্থায়ী দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে।

নখের হঠার আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক লক্ষন প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে এটি আট-দশটা সাধারণ ঘটনার মত একটি ঘটনাও হতে পারে। তবে কোনো কারণে সন্দেহ হলে সেক্ষেত্রে, চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া উচিত। ধন্যবাদ সবাইকে।


পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ১০টি প্রানী


এই পৃথিবীতে সকল প্রানীরই কোন না কোন অবদান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভালো আর কিছু খারাপ। সৃষ্টি কর্তার এই সৃষ্টির সকল প্রানীর মধ্যে বিপজ্জনক প্রানীর সংখ্যাও কম নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক দশটি প্রানির মধ্যে সবার আগে আসা উচিত মানুষের নাম। কারন এর চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু পৃথিবীতে নেই। তবুও মানুষকে এই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি  এখানে প্রানীগুলোকে ক্রমানুসারে ভাগ করা হয়েছে কতটি দূর্ঘটনা বা মৃত্যু এর দ্বারা ঘটে থাকে তার উপর নির্ভর করে। তাই কিছু বিপজ্জনক প্রানী অন্য কম বিপজ্জনক প্রানী থেকে পিছিয়ে রয়েছে কারন এর দ্বারা ঘটা দূর্ঘটনার পরিমান কম। এবার দেখা যাক আলোচিত এই দশ জনের মধ্যে কারা আছে …

১০. ভাল্লুক 
ভাল্লুক অনেক ক্ষেত্রে মানুষের বন্ধু হতে পারে। কিন্তু বন্য ভাল্লুক গুলো? এগুলো  এতটাই বিপজ্জনক যে এই লিস্টের ১০ম স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

ভাল্লুক দ্বারা বছরে যে পরিমান দূর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ৫-১০টি

৯. হাঙ্গর
ছোট-বড় সবাই হাঙ্গর এর নাম শুনলে ভয় পায়। বিপজ্জনক কয়েকটি হাঙ্গর নিয়ে এর আগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। চলচিত্রে হাঙ্গরকে যতটা ভয়ংকর ভাবে দেখানো হয় বাস্তবে ততটা না হলেও নিঃসন্দেহে এটি একটি নোংরা খুনী।

হাঙ্গর দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ১০০টি

৮. জেলীফিস
জেলীফিস দেখতে বেশ মজার হলেও কিছু কিছু জেলীফিস ভয়ংকর বিষাক্ত। এমন কিছু জেলীফিস রয়েছে যার সংস্পর্শে এলে একজন মানুষের মৃত্যু হতে ১০ সেকেন্ড এর বেশি লাগবে না।

জেলীফিস দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ১০০টি

৭. জলহস্তী
জলহস্তী সাধারনত আফ্রিকাতে বেশি দেখা যায়। নির্মম এই প্রানীটি জলে এবং স্থলে দুই জায়গাতেই বাস করে। এটির চোয়াল ৪ ফুট পর্যন্ত খুলতে পারে। এই চোয়ালের জোর এতো বেশি যে অনেক শক্ত বস্তুকে স্লেজহ্যামার এর মত গুড়িয়ে দিতে পারে। এগুলোর ওজন হয়ে থাকে প্রায় ১ থেকে ৩ টন।

জলহস্তী দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টি।

৬. হাতি
পোষা হাতিগুলোর বন্ধুসুলভ আচরন দেখে এমনটি ভাবার কারন নেই যে এরা তেমন ভংকর নয়। অনেক সময় পোষা হাতি এর পালককে মেরে ফেলে। বন্য হাতি সম্পর্কেতো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোন রকম জানান দেয়া ছাড়াই আক্রমন করে বসতে পারে এটি। আর এর আকৃতিও এর স্বভাবের সাথে মানানসই।

হাতি দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টি।

৫. কুমির
আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতে বেশি দেখা যায় কুমির। এটি একটি যথেস্ট বিপজ্জনক প্রানী। দ্রুতগতি সম্পন্ন এই প্রানীটির রয়েছে হাড় গুঁড়িয়ে দেয়ার মত খুবই শক্তিশালী চোয়াল।

কুমির দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টি

৪. বড় বিড়াল
বড় বিড়াল বলতে বাঘ, সিংহ, জাগুয়ার এগুলোকে বোঝায়। এগুলো সম্পর্কে আপনারা প্রায় সবাই কম-বেশি জানেন। অত্যন্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন এই প্রানীগুলোর সাথে দৌড়ানোর ঝুঁকি নেয়া নিশ্চয় কারো উচিত হবে না। যদি কখনো এমন অবস্থায় পড়েন, তাহলে ভুলেও দৌড় দেয়ার কথা চিন্তা করবেন না বরং উল্টো এর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন আর ভাব দেখান এটিকে আপনি পরোয়াই করেন না (তবে আমি নিশ্চিত এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আমি নিজেও ঝেড়ে দৌড় মারবো  )

বড় বিড়াল দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ৮০০ এর বেশি

৩. কাঁকড়া বিছা
আকৃতিতে ছোট হলেও বিছা খুবই বিষাক্ত। এটি মোটামুটি আক্রমনাত্নক এবং কোন কারন ছাড়াই আক্রমন করতে পারে। এর দ্বারা ঘটা দূর্ঘটানার পরিমান কম রেকর্ড হয়। কারন এই দূর্ঘটনাগুলো সাধারনত ঘটে থাকে একটু দুর্গম অঞ্চলে।

কাকড়া বিছা দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ৮০০ থেকে ২,০০০

২. বিষাক্ত সাপ
৪৫০ এর বেশি প্রজাতির সাপ বিষ বহন করে এবং এর মধ্যে ২৫০ প্রজাতির সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সাপের বিষ মানুষের জন্য খুবই বিপজ্জনক কারন রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে এটি সারা দেহে ছড়িয়ে যায়। সাপ দ্বারা সংঘটিত বেশির ভাগ দূর্ঘটনা ঘটে থাকে এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকায়।

বিষাক্ত সাপ দ্বারা বছরে যে পরিমান দুর্ঘটনা ঘটেঃ প্রায় ১০০ থেকে ১,২০,০০০
এবং ….. যার জন্য সবাই এতক্ষন অপেক্ষা করছেন। মানুষের পরেই পৃথিবীর ১ নাম্বার খুনি …

১. মশা
আশা করি মশা প্রথম স্থান অধিকার করায় আমার সাথে আপনারা কেউ দ্বিমত করবেন না। মহামারী আকারে রোগ ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে এর জুড়ি মেলা ভার। আগের তুলনায় কম হলেও এখনো পুরো বিশ্ব জুড়ে ভয়ানক কিছু রোগ ছড়ানো এবং মানুষের মৃত্যুর জন্য দ্বায়ী মশা।

মশা দ্বারা বছরে যে পরিমান মানুষের মৃত্যু ঘটেঃ প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ!!

 
back to top